হাওজা নিউজ এজেন্সি: আল-ওয়েফাক এক বিবৃতিতে জানায়, এসব কর্মকাণ্ড একটি পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক দমননীতির অংশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, উচ্চপর্যায় থেকে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আটক আলেমদের শারীরিক নির্যাতন, গালাগালি, মুখে থুথু নিক্ষেপ এবং যৌন নিপীড়নের হুমকির মাধ্যমে তাদের মর্যাদা ভেঙে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য হলো, তাদের দিয়ে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ স্বীকারোক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া।
সংগঠনটির দাবি, বেশ কয়েকজন আলেম ও ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রের প্রধানকে আটককেন্দ্রের কর্মকর্তারা মারধর করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বন্দিদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া, যা মানবিক মর্যাদার চরম লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্যাতন শুধু শারীরিক সহিংসতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিয়া ধর্মীয় বিশ্বাস ও পবিত্র ব্যক্তিত্বদেরও অপমান করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাফরি মাজহাবকে গালাগালি, শিয়া আকিদা ও ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে উপহাস, আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি অবমাননা, ধর্মীয় আচার, ইমামগণ, আলেম ও অন্যান্য ধর্মীয় পবিত্র বিষয়কে অপমান করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি একে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের নজিরবিহীন উসকানি বলে উল্লেখ করেছে।
আল-ওয়েফাক ‘নির্যাতন ও অপমান’-এর বিভিন্ন ঘটনার তালিকা প্রকাশ করে জানায়, আটক আলেমদের দীর্ঘ সময় পেছন দিকে হাত বেঁধে রাখা, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখা, ওষুধ ও বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত করা এবং তাদের মুখে থুথু নিক্ষেপের মতো আচরণ করা হচ্ছে। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, এর চেয়েও গুরুতর কিছু নির্যাতনের ঘটনা রয়েছে, তবে আটক আলেমদের মর্যাদার কথা বিবেচনা করে সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
সংগঠনটি এসব ঘটনার জন্য বাহরাইনের বাদশাহ ও প্রধানমন্ত্রীকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করে। তাদের ভাষায়, এটি ‘সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস’ এবং ‘জাফরি মাজহাবের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযান’, যার লক্ষ্য বহু শিয়া আলেম।
আল-ওয়েফাক জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, বিভিন্ন রাষ্ট্র, পার্লামেন্ট এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত, আটক ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়।
উল্লেখ্য, বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি দুই দফায় ৫০ জনেরও বেশি শিয়া আলেমকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘বিলায়াতে ফকিহ’ (Wilayat al-Faqih) মতবাদ প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আল-ওয়েফাকের দাবি, এই অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি; বরং আলেমদের বাসা থেকে জব্দ করা পরিচিত ধর্মীয় গ্রন্থ, কিছু অর্থ এবং ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিকেই অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
আপনার কমেন্ট